শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ০০:০৭, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচিত ও সমালোচিত একজন রাজনৈতিক নেতা হলেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। তৃণমূল বিএনপি’র মহাসচিব ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক এই সভাপতিকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই।
দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কর্মসূচী থেকে দুরে থাকার পর সম্প্রতি গত ২৭ আগস্ট রূপগঞ্জের দখলকৃত সরকারি খাল উদ্ধারের দাবিতে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরকে একটি স্মারক লিপি দিতে দেখা যায় তৈমূরকে।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে খালটি উদ্ধার করা হলে রূপগঞ্জের জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে আসবে।
তবে বিএনপির প্রতি তৈমূর আলম খন্দকারের এই টান দেখে তৈমূর বিরোধীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে তৈমূর আলম কি অস্তিত্ব সংকটে পড়ে আবারও বিএনপিতে ফিরতে ব্যাকুল হয়ে উঠেছেন! রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নিজের ভিত শক্ত করতে শুরুতে বাংলাদেশ বধির সংস্থার চেয়ারম্যান ছিলেন তৈমূর আলম খন্দকার।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক সুবিধা পেতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ২০০১ সালে বিএনপি জোট সরকার ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান পদ বাগিয়ে নেন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় যৌথবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন তিনি।
২০০৯ সালে জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে তিনি স্বজনপ্রীতিসহ কমিটি বাণিজ্যে লিপ্ত হন বলে অভিযোগ আছে। ত্যাগী নেতা এবং প্রাক্তন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম ও মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনদের দলীয় কর্মসূচিতে না ডাকা এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে অপমান করার মতো অভিযোগ আছে বলেও দাবি তৈমূর বিরোধীদের।
২০০৩ সালে তার ছোট ভাই ও জনপ্রিয় ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার আততায়ীদের গুলিতে নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান নির্দেশাতা হিসেবে তৎকালীন সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ছয় বছর আইনি লড়াই ও নারাজি আবেদন চালিয়ে যান তৈমূর। তবে ২০১১ সালের মেয়র নির্বাচনের আগে হঠাৎ করেই সেই নারাজি আবেদন প্রত্যাহার করে নেন তিনি।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে ২০২২ সালে মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপি তাকে পদ থেকে বহিষ্কার করে এবং নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে পরাজিত হন। রাজনৈতিক সুবিধাবাদের চরম পরাকাষ্ঠা দেখা যায় ২০২৩ সালে। বিএনপি ছেড়ে শেখ হাসিনার আশীর্বাদপুষ্ট ‘তৃণমূল বিএনপি’র মহাসচিব পদে বসে তিনি একতরফা ডামি নির্বাচনে অংশ নেন।
নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে তিনি জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে চরম পরাজয় বরণ করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলে তৈমূর বিরোধীরা তাকে পুরোপুরি আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে আখ্যায়িত করেন। অবৈধ ও প্রহসনের নির্বাচনে অংশ নিয়ে শেখ হাসিনার একনায়কতন্ত্রকে বৈধতা দেওয়ার অভিযোগে তিনি তখন চরম কোণঠাসা হয়ে পড়েন। যার ফলে পরিবর্তীতে তিনি পুরোপুরি রাজনীতির মাঠ ছেড়ে চলে যান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তৈমূর আলমের রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপেই ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। ক্ষমতার যখন যেদিকে বাতাস বইছে, তিনি সেদিকেই নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছেন বলে তার বিরুদেধ অভিযোগ আছে। এখন ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আবারও বিএনপিতে ফেরার জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে তাদের অভিমত।
তবে বারবার দল পরিবর্তন করে সমর্থকদের কতটুকু আস্থা অর্জন করতে পারবেন সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তৈমূরের বিএনপিতে ফেরার আকাঙ্ক্ষার বিষয়ে জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য, যিনি বারবার দল বদল করেন, শেখ হাসিনার অবৈধ শাসনকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখেন, সেই তৈমুল আলমকে দল কোনদিনও গ্রহণ করবে কি না। সংকটকালে যারা সুবিধা পাওয়ার জন্য দল ছেড়ে চলে যায়, তাদের গ্রহণ করার মতো অবস্থায় এখন আর দল নেই।