শিরোনাম:
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ২০:০১, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের নাম ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগে সিদ্ধিরগঞ্জের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে শফিকুল ইসলাম শফিকের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজলের কাছে ডাকযোগে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝিপাড়া, জেলেপাড়া, হাজারীবাগ, আজিম মার্কেট, পাঠানটুলি ও কো-অপারেটিভ এলাকার বাসিন্দারা দাবি করেন, এসব এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অবৈধ জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েছে। অভিযোগে শফিকুল ইসলাম শফিককে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার দাবি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল স্পষ্ট করে বলেন, শফিকুল ইসলাম শফিক মহানগর যুবদলের ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির কেউ নন। ‘শফিক’ নামে মহানগর যুবদলের কমিটিতে কোনো নেতা নেই। ফলে তার কোনো অপকর্মের দায়ভার যুবদল নেবে না।
সজল আরও বলেন, কেউ যদি যুবদলের নাম ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অবৈধ জমি দখল, দোকান দখল কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, তাহলে ভুক্তভোগীরা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন।
মাদক ব্যবসার অভিযোগ
লিখিত অভিযোগে শফিকুল ইসলাম শফিকের বিরুদ্ধে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, এলাকার বিভিন্ন মোড়, অলিগলি, পরিত্যক্ত স্থান, নদীর তীর ও কিছু বাসাকে কেন্দ্র করে মাদক কেনাবেচা চলছে। এতে এলাকার যুবসমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে কয়েকজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তাদের শফিকের সহযোগী হিসেবে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ :
লিখিত অভিযোগে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ফুটপাতের ব্যবসায়ী, গৃহনির্মাণকারী, গার্মেন্ট ব্যবসায়ী, ডিস ও ওয়াই-ফাই ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি বা আদায়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা এবং কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, মহানগর যুবদলের নেতাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে বিএনপি ও যুবদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ :
অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়, শফিকের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি ও যুবদল নেতাকর্মী হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি ১০ নম্বর ওয়ার্ড ও মহানগর যুবদলের এক নেতাকে হামলার শিকার হওয়ার দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ওয়ার্ড যুবদলের এক নেতার ভাইকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা এসব ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ :
লিখিত অভিযোগে লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়কে ঘিরেও শফিকুল ইসলাম শফিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তিনি বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ এবং ছুটির সময় বিদ্যালয়ের গেটে অবস্থান করে ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করেন। এতে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের তদন্ত দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে শফিকুল ইসলাম শফিকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে দলীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।